ওমিক্রনের মিউটেশনের প্রথম ছবি প্রকাশ

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২১ | আপডেট: ৩:৪১:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২১
ওমিক্রনের মিউটেশনের প্রথম ছবি প্রকাশ

দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের মিউটেশনের প্রথম ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে দেখা গেছে, ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে অনেক বেশি মিউটেশন ঘটেছে ওমিক্রনে।

রোমের ব্যামবিনো গেসু হাসপাতাল রবিবার অনেকটা মানচিত্রের মতো দেখতে একটি ত্রি-মাত্রিক ছবি প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

হাসপাতালের গবেষকরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ডেল্টার চেয়ে অনেক বেশি মিউটেশন ঘটেছে নয়া ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে, তা স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে। ডেল্টার তুলনায় স্পাইক প্রোটিনে (এর মাধ্যমে ভাইরাস মানব দেহে প্রবেশ করে) এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের উপস্থিতি অনেক বেশি।’

তবে তারা বলছেন, ‘এর অর্থ এই নয় যে, এই ভ্যারিয়েন্ট অন্যগুলোর চেয়ে অনেক বেশি ভয়ঙ্কর। বরং আপাতত এটাই মনে করা উচিত, মানব দেহে সংক্রমণ ঘটানোর জন্য ভাইরাস আরও একটি রূপ নিয়েছে মাত্র।’

এই ভ্যারিয়েন্ট কতটা প্রাণঘাতী, সে বিষয়টি নিশ্চিত হতে ভবিষ্যতের গবেষণার দিকে নজর রাখতে হবে।

মিলান স্টেট ইউনিভার্সিটির ক্লিনিক্যাল মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ব্যামবিনো গেসুর অন্যতম গবেষক ক্লদিয়া আলটেরি বলছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল মিউটেশনের পরিমাণ নির্ধারণ করা। তা সফলভাবে করতে পেরেছি।’

করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঘিরে বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে বেশকিছু দেশে নতুন এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। এই ভ্যারিয়েন্টকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতোমধ্যে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব কনসার্ন’ ঘোষণা করেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, হংকং, ইসরায়েল ও বতসোয়ানায় ওমক্রিন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

এদিকে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের খবরে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে বিশ্বের অনেক দেশ।

তবে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে ‘বৈষম্যমূলক, অযৌক্তিক এবং অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিহিত করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা।

তিনি বলেন, ‘এরপরই স্পাইক প্রোটিনের ত্রি-মাত্রিক ছবি প্রকাশ্যে আনা হয়েছে যাতে নয়া ভ্যারিয়েন্টের গতিবিধির ওপর নজর রাখা যায়।’

ক্লদিয়া আরও বলেছেন, ‘এই ভ্যারিয়েন্ট আরও বেশি ভয়ঙ্কর কি না, তা জানার জন্য গবেষণা আমরা করিনি। শুধু স্পাইক প্রোটিনে এই ভ্যারিয়েন্টের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় (ওমিক্রন) কত বেশি বা কম মিউটেশন ঘটিয়েছে, তা দেখতে চেয়েছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কাজে সফল। এই ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহতা নির্ণয়ের ভার আগামীর হাতে।’